Friday , January 19 2018
Home / স্বাস্থ্য / ময়নাতদন্তের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বেঁচে উঠলেন ‘মৃত’ কয়েদী!

ময়নাতদন্তের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বেঁচে উঠলেন ‘মৃত’ কয়েদী!

কথায় আছে রাখে আল্লাহ, মারে কে? আল্লাহ তায়ালা যদি কাউকে বাঁচায়, তবে কারো সাধ্যি নেই তাকে মারার। আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় মরা মানুষ ও তার জীবন ফিরে পেতে পারে।

ঠিক এমনটাই হয়েছে এক মানুষের জীবনে। স্পেনের এক কয়েদী, গনজালো মনটয়া জিমেনেজকে তার কারাগারে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় রবিবার সকালে। এরপর তাকে তিনজন ডাক্তার পরীক্ষা করেন এবং জীবনের কোন চিহ্ন খুঁজে না পাওয়ায় মৃত ঘোষণা করেন।

তার শরীর ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলা হয় এবং ইনস্টিটিউট অফ লিগাল মেডিসিনের মর্গে নিয়ে রাখা হয়। তার শরীরটিকে ময়নাতদন্তের জন্যও প্রস্তুত করা হয়। শরীরের কোথায় কোথায় কাটা হতে পারে সেই দাগ দেওয়া হয় তার ত্বকে। তার পরিবারকে জানানো হয় যে তিনি মৃত।

কিন্তু ময়নাতদন্তের ছুরি চালানোর আগেই ২৯ বছর বয়সী এই কয়েদীর শরীরে প্রাণের লক্ষণ দেখা দেয়। ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা ফরেনসিক টিম তা খেয়াল করে এবং দ্রুতই তাকে নিকটস্থ এক হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখান তিনি কথা বলার মত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তার স্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান। তার পরিবারের সাথে কথা বলেন তিনি।

ডাক্তাররা জানান, তার মস্তিষ্ক বেশ কিছুটা সময় অক্সিজেনের অভাবে ছিল। কিন্তু এখন তিনি কথা বলার মত সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তার মানে তিনি সেরে উঠছেন ভালোভাবেই।

ডাক্তাররা তাকে মৃত মনে করার কারণ?

স্প্যানিশ টেলিভিশন শো ইনফরমাটিভোস টেলেসিনকোর মতে, সম্ভবত ক্যাটালেপ্সির কারণে তাকে মৃত ধরে নেন ডাক্তাররা, তবে এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্যাটালেপ্সির লক্ষণ হলো, শরীর শক্ত হয়ে আসা, সাড়া না দেওয়া, এবং পেশীর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারানো। এর পাশাপাশি কিছু শারীরিক প্রক্রিয়াও বন্ধ হতে দেখা যায় (যেমন শ্বাস-প্রশ্বাস)। ক্যাটালেপ্সি দেখা দিলে সেই মানুষটিকে ডাক্তাররা মৃত বলে ভুল করতে পারেন।

ক্যাটালেপ্সি হলো এপিলেপ্সি বা মৃগীরোগের একটি লক্ষণ, যাতে কিনা এই কয়েদী ভুগছিলেন। সুতরাং তার শরীরে ক্যাটালেপ্সি দেখা দেবার সম্ভাবনা বেশ প্রবল। তবে তাকে যে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন তারা জিমেনেজের মৃগীরোগের ব্যাপারে অবগত ছিলেন কিনা এ ব্যাপারে জানা যায়নি।

স্প্যানিশ প্রিজন সার্ভিসের এক মুখপাত্র দি সানকে জানান “ইনস্টিটিউট অফ লিগাল মেডিসিনে কী ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে পারছি না তবে তিনজন ডাক্তার মৃত্যুর লক্ষণ শনাক্ত করেছেন,”। “তাই এমন ঘটনা কেন ঘটেছে তার ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না।”

অবাক হলেও সত্যি যে, জীবন্ত মানুষকে মৃত মনে করাটা খুব একটা বিরল নয়। ২০১৪ সালে ৯১ বছর বয়সী এক পুলিশ নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পড়ে তিনি মর্গে জেগে ওঠেন এবং বলতে থাকেন তার ঠাণ্ডা লাগছে। সেই বছরেই মিসিসিপিতে এক ৭৮ বছর বয়সী বৃদ্ধকে মৃত ঘোষণা করার পর মর্গে নেওয়া হয়। দেখা যায়, তাকে যে ব্যাগে রাখা হয়েছিল তিনি সেই ব্যাগ থেকে বের হবার জন্য পা ছুঁড়ছেন।

Check Also

মধু-পানি পানের স্বাস্থ্য গুনাগুণ

মধু সেই আদিকাল থেকেই ওষুধ হিসেবে সুপরিচিত। কাঁটাছেড়া সারানো থেকে শুরু করে ঠান্ডা কাশি সারিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *