Friday , January 19 2018
Home / স্বাস্থ্য / বিয়ের আগে হবু কনের যে খাদ্যাভাস মেনে চলা প্রয়োজন

বিয়ের আগে হবু কনের যে খাদ্যাভাস মেনে চলা প্রয়োজন

একজন নারীর জীবনে ‘বিয়ে’ ব্যাপারটির সাথে জড়িয়ে থাকে অনেক স্বপ্ন, আবেগ, পরিকল্পনা, দুশ্চিন্তা এবং আশঙ্কা। খুব স্বাভাবিকভাবেই নিজের বিয়ের সকল আয়োজন নিয়ে হবু কনের মাঝে থাকবে অপরিসীম উত্তেজনা। যে কারণে বিয়ের সময়সূচী এবং দিনক্ষণ নির্ধারন করার পর থেকেই একজন হবু কনে বিয়ের দিনের জন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দেন। বিয়ের দিনটিতে নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর ও পারফেক্ট দেখাবে, প্রতিটি হবু কনের কাম্য এটা। যে কারণে শাড়ি-গহনা মন মতো কেনা, পছন্দসই পার্লারে বিয়ের সাজের জন্য বুকিং দেওয়া, সঠিক মেহেদি কোন কেনা, পছন্দনীয় ফটোগ্রাফারের শিডিউল নেওয়া সবকিছুই করা হয়ে থাকে অনেক যত্ন ও খেয়ালের সাথে। একইসাথে বিয়ের সময়ের আগ পর্যন্ত নিজের ত্বকের ও চুলের যত্ন নেওয়াও চলে নিয়মিতভাবে।

এই সকল আয়োজন ও প্রস্তুতির মাঝে যে ব্যাপারটি নিয়ে প্রতিটি হবু কনে চিন্তিত থাকেন সেটা হলো বাড়তি ওজন! প্রায় সকলের মনের মাঝেই প্রশ্ন ঘোরে বাড়তি মেদ ও ওজনকে কীভাবে অল্প কদিনের মাঝেই কমিয়ে ফেলা যাবে? অথবা, স্বল্প সময়ের মাঝে ওজনকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় কী উপায়ে? ওজন কমানোর ক্ষেত্রে একেবারে শর্টকাট উপায় নেই বললেই চলে। যেসকল প্রচলিত শর্টকাট উপায়ে ওজন কমানো যায় বলে আমরা জানি, সে উপায়গুলো শরীরে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়। পুষ্টিহীনতা ও দূর্বলতাসহ নানান ধরণের শারীরিক উপসর্গ দেখা দেওয়া শুরু করে এই সকল শর্টকাট উপায় মানতে গেলে।  ব্যস্ততাও বেড়ে যায় অন্য সময়ের তুলনায় অনেকখানি। এর মাঝে কোন হবু কনেই নিশ্চয় চাইবেন না অসুস্থ হয়ে পড়তে! তাই শর্টকাট কোন উপায়ের খোঁজে না গিয়ে খুব ছোট ও সহজ কিছু নিয়ম মানতে পারলে এক-দুই মাসের মাঝেই বাড়তি ওজনকে নিয়ন্ত্রণের মাঝে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

দুগ্ধজাতীয় খাদ্য পরিহার করা

দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাদ্য যেমন: মাখন অথবা পনির পরিপাক হতে বেশ অনেকক্ষণ সময় নেয়। যে কারণে, এই জাতীয় খাদ্য উপাদান এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। এছাড়াও, এই সকল খাদ্য গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, পেটেফাঁপা ভাবের সমস্যা সহ পাকস্থলীর বিভিন্ন ধরণের সমস্যা তৈরি করে থাকে। নিজের বিশেষ দিনে তো বটেই, তার আগের সময়গুলোতেও সুস্থ থাকতে চাইলে এই জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে।   

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা

পানি পানের ফলে শরীরের সকল ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে যায়। এতে করে শরীর সুস্থ থাকে, মুখের ত্বক সুস্থ থাকে, চুল ভালো থাকে। ক্যালোরি মুক্ত, ফ্যাট মুক্ত প্রাকৃতিক এই উপাদান যখন খুশি যত খুশি পান করা যাবে। এমনকি, পানি পান বাড়তি ক্যালোরি কমাতে সাহায্য করে থাকে। বেশ কিছু গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, পানি পানের ফলে শরীরের মেটাবোলিজম এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে ওজন দ্রুত কমে।

ফ্যাট ও মিষ্টি জাতীয় খাদ্য গ্রহণে বিরত থাকা

বাইরের ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড খেতে পছন্দ করেন? অথবা কেক, ডোনাট, মিষ্টি? পছন্দনীয় হলেও এই সকল খাবার গ্রহণ থেকে পুরোপুরিভাবে বিরত থাকার চেষ্টা করতে হবে। কারণ এই সকল খাবারে থাকে প্রচুর পরিমাণে আন-স্যাচুরেটেড ফ্যাট। যা বাড়তি ওজন তৈরি করে এবং বাড়তি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বাঁধা প্রদান করে। বিয়ের জন্য শপিং কিংবা কার্ড দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জনের বাসাতে যাওয়ার প্রয়োজন হলে ব্যাগে নিজের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করে নিতে হবে।

প্রতি দুই-তিন ঘণ্টা অন্তর স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

ঘনঘন খাবার খাওয়ার ফলে শরীরের-মেদ কমার ক্ষেত্রে কার্যকরি ভূমিকা রাখে। একইসাথে মেটাবলিজম এর মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। আর মেতাবলিজমের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া মানেই বাড়তে ওজন কমা। তাই ক্ষুদাভাব নিয়ে না খেয়ে থাকার কোন প্রয়োজন নেই। বরঞ্চ, প্রতি দুই-তিন ঘন্টা পরপর স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করে ফেলতে হবে।

শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিহার করা

মাড় জাতীয় যে কোন খাদ্য উপাদানেই থাকে কমপ্লেক্স শর্করা। যাতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিউপাদান একেবারে নেই বললেই চলে। এছাড়া, এতে থাকে অনেক উচ্চমাত্রায় ক্যালোরি। ফ্যাট এবং চিনি। এই সকল উপাদানই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এমন ধরণের খাদ্য উপাদানগুলো হলো- ভাত, রুটি, পাউরুটি, পাস্তা, আলু প্রভৃতি। নিয়মিত এই সকল খাদ্য উপাদান গ্রহণ যেমন বাড়তি ওজন তৈরি করে, তেমনই এই সকল খাদ্য উপাদান পরিহার করতে পারলে বাড়তি ওজন কমতে থাকে।

Check Also

প্রতিদিন হলুদ-পানি পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা

আমাদের দেহে বিভিন্নভাবে বিষাক্ত পর্দাথ প্রবেশ করে থাকে। যেমন- বায়ুর মাধ্যমে, খাবারের মাধ্যমে অথবা পানির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *