Friday , January 19 2018
Home / স্বাস্থ্য / প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার লক্ষণ ও প্রতিকার

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার লক্ষণ ও প্রতিকার

বিশেষ করে নারীদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি, তলপেটে ব্যথা ইত্যাদি একটি পরিচিত সমস্যা। অল্পবয়সী অথবা মধ্যবয়সী সব বয়সের নারীদেরই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হতে পারে। সব সময় যে তা প্রস্রাবে সংক্রমণের কারণে হয়, তা নয়। তবে মনে রাখা ভালো যে প্রস্রাবে সংক্রমণ নারীদেরই বেশি হয়ে থাকে। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করার প্রধান জীবাণুটি হলো ব্যাকটেরিয়া। তবে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস এ ধরনের প্রদাহ ঘটায়। মেয়েদের মূত্রনালী পায়ুপথের খুব কাছে থাকে বলে সহজেই জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। ই-কলাই নামক জীবাণু শতকরা ৭০-৮০ ভাগ প্রস্রাবের প্রদাহের কারণ।

এখানে অবশ্য আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার যেমন গরম আবহাওয়া বা শরীরে প্রচন্ড তাপের কারনে অনেক সময় পানি শূন্যতা দেখা দেওায়া বা অনেক সময় কিডনির নিঃসৃত পানি গরম থাকার জনা মুত্র নালীর প্রদাহে অনেক সময় জ্বালা পোড়া দেখা দিতে পারে, তবে তা সবাময়িক ইহা তে গাবড়ানোর মত কিছুই নাই তবে অনুরোধ থাকবে বারে বারে যাতে না হয় সে জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি বা ঐ জাতীয় কিছু পান করার।

লক্ষণ ও উপসর্গ :

1. পিঠের পেছনদিকে উদরের নিচে ব্যথা
2. প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া, ব্যথা হওয়া সহ অন্যান্য অস্বস্তিকর অনুভূতি
3. পুন:পুন: প্রস্রাবের তাগিদ অনুভব কিন্তু খুবই সামান্য প্রস্রাবের নির্গমন
4. ঘোলাটে, কড়া গন্ধযুক্ত এবং রক্ত সমন্বিত প্রস্রাবের নির্গমন
5. প্রস্রাবের সাথে হলদেটে পদার্থের নির্গমন (মূত্রনালী দিয়ে)
6. মহিলাদের ক্ষেত্রে যৌন মিলনের সময় পীড়াদায়ক অনুভুতি বা ব্যথা পাওয়া

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন :

নিম্নোক্ত শরীর চর্চার কৌশলগুলো রপ্ত করুন, এই ব্যায়ামগুলো মূত্রথলির পেশিগুলোকে আরও সক্রিয় করে তুলে মূত্র থলি দিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে তরলের নির্গমন রোধে সহায়ক হয়ে ওঠে:

যখন আপনি প্রস্রাব করতে শুরু করেন এবং শেষ করেন তখন উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন যে কোন কোন হ্মহানের পেশিগুলো এই শুরু এবং বন্ধের কাজটি করছে। পরে, ঐ পেশিগুলো নূন্যতম ১৫ থেকে ২০ বার একইভাবে সংকোচন ও সম্প্রসারণ করুন। দিনে তিনবার এই চর্চাটি করুন। কিছুদিন চর্চার পর চেষ্টা করুন যে পেশিগুলোকে সংকোচন করে নূন্যতম ১০ সেকেন্ড চেপে ধরে থাকতে পারেন কি না। এই ব্যায়াম চর্চা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়: কেবল আপনিই জানবেন যে এই ব্যায়ামটি আপনি করছেন।

1.আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলুন এবং নিয়মিত শরীর চর্চা করুন।
2. শরীরের অতিরিক্ত ওজন ব্ল্যাডার বা মূত্র থলির উপর চাপ প্রয়োগ করে।
3. প্রচুর পরিমাণে সজীব ফল, শাক সব্জি এবং আস্ত খাদ্য দানা আহার করুন যাতে করে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা আপনার না হয়। কেননা কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে যে তীব্র চাপ 4. অনুভূত হয় সেটা মূত্রথলির পেশিগুলোকে দুর্বল করে দেয়।
5. মদ পান থেকে দূরে থাকুন, এবং ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় পান থেকেও বিরত থাকুন কেননা এগুলো মূত্রথলিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলে অনাকাঙ্খিত তরল 6. 6.নির্গমনের সুযোগ করে দেয়।                                                                        6. প্রচুর পরিমাণে পানি বা ঠান্ডা জাতীয় কিছু পান করা।                                                                                                                                                                                                                                                                                 7. আপনার ডাক্তারের সাথে আলাপ করে জেনে নিন যে এই রোগ নিরাময়ের জন্যে আপনি বায়োফিডব্যাক (একটি পদ্ধতি যা দ্বারা কেউ নিজের শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ সম্পর্কে আগেভাগে অবহিত হতে সক্ষম) ব্যবহার করতে পারবেন কি না।

তবে প্রস্রাব-সংক্রান্ত যেকোনো উপসর্গে সংক্রমণ আছে কি না তা আগে নিশ্চিত হয়ে নিন। বারবার সংক্রমণ হলে ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা পাথর, মূত্রথলিতে কোনো সমস্যা আছে কি না দেখে নিন। মেনোপজ হয়ে গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাহায্য নিন এ সমস্যা সমাধানে।

Check Also

মধু-পানি পানের স্বাস্থ্য গুনাগুণ

মধু সেই আদিকাল থেকেই ওষুধ হিসেবে সুপরিচিত। কাঁটাছেড়া সারানো থেকে শুরু করে ঠান্ডা কাশি সারিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *