Wednesday , March 28 2018
Home / স্বাস্থ্য / জানেন কি ক্যানসার হতে পারে আপনার ঘরের আসবাবপত্র থেকে?

জানেন কি ক্যানসার হতে পারে আপনার ঘরের আসবাবপত্র থেকে?

আধুনিক জীবনে আমরা প্রতি মুহূর্তে চেষ্টা করি আমাদের প্রতিদিনের রান্নার সময় পাত্রটি যখন গরম হয়ে যায় তখন এই কোটিং থেকে ফ্লুওরাইডভিত্তিক কিছু গ্যাস এবং রাসায়নিক নির্গত হয় যেগুলো কার্সিনোজেনিক, অর্থাৎ ক্যানসারের বীজ হিসেবে কাজ করে।

এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার সোফা, আপনার ফ্রিজ, আপনার গ্র্যানাইট কাউন্টারটপ এবং ঘরের অন্যান্য অনেক জিনিস হতে পারে আপনার মধ্যে ক্যানসার সৃষ্টির কারণ।

১. সোফা-
প্রিয় সোফা আপনার সর্বনাশ করতে পারে এবং তা কেবল এই কারণে নয় যে এটি আপনাকে কাজকর্ম থেকে দূরে থাকতে প্রলুব্ধ করে: অনেক সোফা, ম্যাট্রেস এবং অন্যান্য কুশনযুক্ত ফার্নিচারে অগ্নিপ্রতিরোধী টিডিসিআইপিপি ব্যবহার করা হয় যা ক্যানসারের জীবাণু থাকে।

২০১৩ সালের পূর্বে প্রায়ক্ষেত্রে টিডিসিআইপিপি ব্যবহার করা হতো এবং ডিউক ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের রক্তে এটি পাওয়া যায়। এ গবেষণা অনুসারে, এটি হচ্ছে দশটি কেমিক্যালের একটি, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে গৃহস্থালির ধূলিকণায় পাওয়া যায়।

করণীয়
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিলের মতে, ২০১৩ সালের পূর্বে ক্রয়কৃত কুশনযুক্ত ফার্নিচার বদলে ফেলার কথা বিবেচনা করুন এবং যেকোনো নতুন ফার্নিচার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ফার্নিচার লেবেল চেক করুন।

২. কার্টেন ও কার্পেট-
ক্যাডমিয়াম হচ্ছে সিগারেট স্মোকের কার্সিনোজেনিক বাইপ্রোডাক্ট। যদি আপনি ঘরে ধূমপান করেন, তাহলে ক্যাডমিয়াম ও সিগারেট স্মোকের অন্যান্য বাইপ্রোডাক্ট ঘরের জিনিসের সঙ্গে লেগে থাকতে পারে, বিশেষ করে কার্টেন ও কার্পেটের মতো নরম পৃষ্ঠের ওপর- এমনকি স্মোকের ঘ্রাণ চলে যাওয়ার দীর্ঘসময় পরও। ধূমপানের ফলে ঘরের জিনিস বা বিভিন্ন অংশে ক্ষতিকারক পদার্থ লেগে থাকাই হচ্ছে থার্ডহ্যান্ড স্মোক এবং এসব পদার্থ শক্তিশালী ক্লিনিং প্রোডাক্টের প্রতি রেজিস্ট্যান্ট।

করণীয়
ধূমপান ত্যাগ করুন এবং কখনো ঘরে ধূমপানের অনুমতি দেবেন না।

৩. লেদার রিক্লাইনার-
ক্রোমিয়াম ৬ হচ্ছে পরিচিত কার্সিনোজেন যা পাকা চামড়া, কাঠের আসবাবপত্র, টেক্সটাইলে ব্যবহৃত কিছু রঙ ও রঞ্জক পদার্থ এবং সিমেন্টে পাওয়া যায়। ডেনমার্কে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, আমদানিকৃত প্রায় অর্ধেক চামড়ার জুতা ও স্যান্ডালে ক্রোমিয়াম ৬ পাওয়া গেছে।

করণীয়
ক্রোমিয়াম ৬ আছে কিনা জানতে প্রোডাক্টের লেবেল চেক করুন।

৪. বাগান-
ডাইঅক্সিন হচ্ছে একটি কার্সিনোজেন যা বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে উৎপন্ন হয় এবং শেষ পর্যন্ত এর ঠাঁই হয় মাটি ও পানিতে। এটি তাকের ধূলিকণা, ফ্লোরের ময়লা এবং শাকসবজির রেসিডুতে থাকতে পারে।

করণীয়
বাগানে কাজ করার সময় গ্লাভস পরুন এবং ঘরে প্রবেশের পূর্বে হাত-মুখ-পা ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া গৃহস্থালির আবর্জনা পোড়ানো থেকে বিরত থাকুন।

৫. পুরোনো ফ্রিজ-
ক্যানসার ডট অর্গের মতে, ‘পুরোনো যন্ত্রপাতি, ফ্লোরেসেন্ট লাইটিং ফিক্সচার এবং ইলেক্ট্রিক্যাল ট্রান্সফরমারে কার্সিনোজেনিক পিসিবি আবির্ভূত হতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে পিসিবি উৎপাদিত হয় না, কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে এখনো পিসিবি উৎপাদিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে। পিসিবি এক্সপোজারের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে খাবার।

করণীয়
পুরোনো যন্ত্রপাতি ও ফ্লোরেসেন্ট লাইটিং ফিক্সচার দূর করুন। পিসিবি-দূষিত মাছ ও অন্যান্য খাবার বর্জন করুন।

৬. পরিস্কারক প্রসাধনী-
ফরমালডিহাইড হচ্ছে একটি পরিচিত কার্সিনোজেন যা খাবার, কসমেটিক্স, বিভিন্ন ধরনের ক্লিনিং প্রোডাক্ট (যেমন- ডিসওয়াশিং লিকুইড, ফ্যাব্রিক সফেনার ও কার্পেট ক্লিনার), পেইন্ট, ফোম ইনসুলেশন এবং পার্মানেন্ট প্রেস ফ্যাব্রিকে পাওয়া যায়। এছাড়া গ্যাস কুকার এবং ওপেন ফায়ারপ্লেসের ধোঁয়া থেকে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে এটি এক্সপোজ হতে পারে।

করণীয়
ফরমালডিহাইড সমৃদ্ধ হাউজহোল্ড প্রোডাক্টগুলো চিনে রাখুন। সাবধানতার সঙ্গে আপনার ক্লিনিং প্রোডাক্ট বেছে নিন এবং রান্নাঘরে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করুন।

৭. ওয়ারড্রব-                                                                                                                                                                                                                                                                                                                        শুষ্ক-পরিষ্কারক কেমিক্যাল পেরক্লোরোইথাইলিন (টেট্রাক্লোইথাইলিন বা পার্ক) হচ্ছে একটি কার্সিনোজেন যা আপনি যেখানে শুষ্ক-পরিষ্কৃত কাপড় রাখেন সেখানে জমা হতে পারে। এটি স্পট রিমুভার, শো পলিশ ও উড ক্লিনারেও পাওয়া যায়।

করণীয়
জুতা পলিশ ও কাঠ পরিষ্কার করার সময় গ্লাভস পরুন। যদি আপনি নিজের কাপড় নিজে শুকান ও পরিষ্কার করেন, তাহলে পার্ক নেই এমন ড্রাই-ক্লিনার ব্যবহার করুন।

৮. ভিনাইল ফ্লোরিং ও মিনিব্লাইন্ড-
ধারণা করা হচ্ছে, ফ্যালেইটস ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি মানব প্রজনন বা ক্রমবিকাশে প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ভিনাইল ফ্লোরিং, শাওয়ার কার্টেন, সিনথেটিক লেদার, মিনিব্লাইন্ড, ওয়ালপেপার এবং পিভিস ভিনাইল দিয়ে নির্মিত যেকোনো কিছুতে পাওয়া যায়। প্লাস্টিকের প্যাকেটজাত খাবারেও এটি পাওয়া যায়।

করণীয়
পিভিসি ভিনাইল দিয়ে তৈরিকৃত পণ্য থেকে দূরে থাকুন। ফ্যালেইট-মুক্ত পণ্য খুঁজে দেখুন। ২০০৮ সালের পূর্বে তৈরিকৃত প্লাস্টিক খেলনা পরিহার করুন, গ্লাস ও স্টেইনলেস পাত্র ও বোতল ব্যবহার করুন। প্লাস্টিকের মোড়ক ও খাবারপাত্র ব্যবহার করবেন কিনা পুনর্বিবেচনা করুন।

৯. লাইব্রেরি বুক-
লাইব্রেরি অব কংগ্রেস এবং অন্যান্য সরকারি উৎস অনুসারে, মেডিক্যাল সাপ্লাই, লাইব্রেরির বই এবং জাদুঘরের বস্তু ইথাইলিন অক্সাইড দিয়ে জীবাণুমুক্ত বা কীটমুক্ত করা হয়- যা একটি পরিচিত কার্সিনোজেন।

করণীয়
ইথাইলিন অক্সাইড এক্সপোজ হয়েছে এমন আইটেম ঘরে আনবেন না।

১০. স্প্রে-
প্যান্ট্রি রুমের কীটপতঙ্গ এবং অন্যান্য ছোট কীটপতঙ্গ রোগের কারণ হতে পারে। যদি আপনি কেমিক্যাল পেস্টিসাইড (যেমন- ফ্লি কলারস এবং টিক রিপেল্যান্ট) দিয়ে এসব কীটপতঙ্গ নির্মূল করেন, আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

করণীয়
কীটপতঙ্গ বিনাশের জন্য বিকল্প হিসেবে কম বিষাক্ত পেস্টিসাইড বা কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন অথবা প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *