Friday , January 19 2018
Home / স্বাস্থ্য / কতদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় ঠাণ্ডার সমস্যা?

কতদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় ঠাণ্ডার সমস্যা?

পুরো বছর জুড়ে কমবেশী ঠাণ্ডা জনিত সমস্যা দেখা দিলেও, শীতের মৌসুমে ঠাণ্ডা জনিত সমস্যাগুলো দেখা দেবার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায় অনেকটা। মাথাব্যথা, গলাব্যথা, কাশি, সর্দিসহ বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে থাকে ঠাণ্ডার প্রাদুর্ভাবে। সাধারণ এই শারীরিক সমস্যা আদতে শরীরে তেমন কোন ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি না করলেও, সমস্যাগুলোর লক্ষণের ফলে ঠাণ্ডার সমস্যা কষ্টকর হয়ে ওঠে।

অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে, কতদিন পর্যন্ত এই বিরক্তকর ও কষ্টকর সমস্যা স্থায়ী হবে? কীভাবে এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যাবে? কেনই বা এই সকল সমস্যা দেখা দিচ্ছে? এই সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মেমোরিয়াল হারম্যান দ্যা উডল্যান্ডস মেডিকেল সেন্টার এর জেরিয়াট্রিক ফিজিশিয়ান মেঘা তিওয়ারি। জেনে নিন তার কাছ থেকেই।

ঠাণ্ডার সমস্যা আসলে কী?

মায়ো ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণ ঠাণ্ডার সমস্যা হলো নাক ও গলার ভাইরাল ইনফেকশন। এটা মূলত ক্ষতিবিহীন একটি সমস্যা। যদিও সমস্যার লক্ষণের কারণে তেমনটা মনে হয় না। ঠাণ্ডার সমস্যার জন্যেই মূলত অনেক শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না, অথবা অনেকেই অফিস ও ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারেন না। দ্যা সেন্টারস ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (CDC) এর রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি বছর অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ, সকলেই কমবেশী বিভিন্ন ধরণের ঠাণ্ডার সমস্যাতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

ঠাণ্ডার সমস্যা কীভাবে ছড়িয়ে থাকে?

ছোটবেলা থেকে আমরা বিভিন্ন ধরণের কথা জেনে বড় হয়েছি ঠাণ্ডা লাগার বিষয়ে। যার মাঝে বেশীরভাগ কথাই ভিত্তিহীন। সাধারণ ঠাণ্ডার সমস্যা ছড়িয়ে থাকে ভাইরাসের মাধ্যমে। ঠাণ্ডার সাধারণ ও প্রাথমিক সমস্যা তৈরি করার জন্যে প্রায় ২০০ টি ভিন্ন ভিন্ন ভাইরাস দায়ী। যার মাঝে Rhinovirus কে সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়ে থাকে। ফিজিশিয়ান মেঘা তিওয়ারি জানান, ঠাণ্ডার সমস্যা তৈরি করার ভাইরাস বাতাস, মানবশরীরের তরল পদার্থ (রক্ত, স্যালাইভা) এবং ভাইরাসযুক্ত কোন স্থান স্পর্শ করার মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে।

তবে ঠাণ্ডার সমস্যা তৈরি হবার প্রচলিত সকল কথা একেবারে ভুল নয়। ঠাণ্ডা আবহাওয়ার মাঝে সঠিক গরম কাপড় পরে বের না হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হয়ে ঠাণ্ডার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কতদিন পর্যন্ত ঠাণ্ডার সমস্যা স্থায়ী হয়ে থাকে?

ডা. তিওয়ারি জানান, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ঠাণ্ডার সমস্যা দেখা দেবার ১০ দিনের মাঝেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে সকলেই। তবে ক্ষেত্র বিশেষে সেটা কম বেশী হতে পারে। এখানে তুলে ধরা হলো, ঠাণ্ডাজনিত কোন সমস্যা কতদিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

–      গলাব্যথা দেখা দেবার এক-তিন দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

–      হালকা মাথাব্যথা দেখা দেবার কয়েকদিনের মাঝেই ভালো হয়ে যায়।

–      হালকা শরীরের পেশী ব্যথাভাব কয়েকসিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

–      হালকা ধাঁচের জ্বর অথবা জ্বর জ্বর ভাব থাকবে কয়েকদিন পর্যন্ত।

–      শারীরিক অবসাদ থাকলে এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত।

–      নাক বন্ধভাব এক-দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে।

–      কাশির সমস্যাও এক-দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

এছাড়াও ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডার সমস্যা স্থায়ী হয়ে থাকে উপরোক্ত সময়ের চাইতেও আরো বেশী সময় ধরে। একইসাথে দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, শ্বাসকষ্ট অথবা ফুসফুস জনিত সমস্যা থাকলে ঠাণ্ডার সমস্যার স্থায়িত্ব বেড়ে যায় অনেকটা।

ঠাণ্ডা সমস্যা দেখা দিলে কী করা উচিৎ?

ঠাণ্ডার সমস্যা দেখা দিলে সময়ের সাথে সাথে নাক থেকে সর্দি বের হওয়া শুরু করবে। যেটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ, এটা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তবে ঠাণ্ডার সাথে কিছু শারীরিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। লক্ষণগুলো হলো-

–      ১০০.৪ ডিগ্রী ফারেনহাইটের বেশী শরীরের তাপমাত্রা দেখা দিলে।

–      সমস্যার লক্ষণ ১০ দিনের বেশী স্থায়ী হলে।

–      শারীরিক সমস্যার লক্ষণ সমূহ বেশী গুরুত্বর এবং জটিল মনে হলে।

ঠাণ্ডার সমস্যা থেকে পরিত্রান পাবার উপায় কী?

ঠাণ্ডার সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে চাইলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে, সচেতন থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। কারণ, এই সমস্যার জন্যে কোন ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। এছাড়া, সমস্যা দেখা দিলে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণেও খুব একটা উপকার পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে সবদিক দিয়ে উপযোগী উপায় হলো সচেতন থাকা।

 

Check Also

প্রতিদিন হলুদ-পানি পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা

আমাদের দেহে বিভিন্নভাবে বিষাক্ত পর্দাথ প্রবেশ করে থাকে। যেমন- বায়ুর মাধ্যমে, খাবারের মাধ্যমে অথবা পানির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *