Wednesday , March 28 2018
Home / রুপচর্চা / শীতের মৌসুমে ত্বকের যত্নে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন

শীতের মৌসুমে ত্বকের যত্নে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন

প্রতিটি মৌসুমে আলাদাভাবে ত্বক ও নিজের প্রতি খেয়াল রাখার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে শীতের সময়ে নিজের প্রতি তুলনামূলক বেশী যত্নবান হবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আবহাওয়া জনিত কারণে শীতের সময়ে অনেকের ত্বকের বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া, শুষ্কভাব দেখা দেওয়া, ডিহাইড্রেশন তৈরি হওয়া সহ নানান ধরণের সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে। ছোটখাটো কিছু টিপস ও নিয়ম মেনে চললে এই সকল সমস্যাকে দূরে রাখা সম্ভব হয় খুব সহজেই।

ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা

শীতে প্রধান সমস্যা হলো মুখ, সহ পুরো শরীরের ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠা। এই সমস্যা দেখা দেয় আবহাওয়ায় আর্দ্রতার অভাব দেখা দেওয়ার জন্য। যে কারণে প্রতিদিন ভালো মানের কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা আবশ্যিক। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার পূর্বে অবশ্যই ভালোমতো দেখে নিতে হবে, সেটা ত্বকে সর্বোচ্চ ময়েশ্চার দিতে পারবে কিনা। অর্থাৎ ত্বককে নরম রাখতে সাহায্য করবে কিনা।

শুধুমাত্র মুখের জন্য ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। পুরো শরীরের ত্বক শীতকালে শুষ্ক হয়ে ওঠে। যে কারণে শরীরের জন্য ভালো কোন লোশন ব্যবহার করতে হবে।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করার কথা ভুলে গেলে চলবে না

শীতকালে রোদের দেখা খুব একটা পাওয়া যায়। যে কারণে অনেকেই এই সময়ে বাইরে বের হবার সময়ে সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন না। যেটা একেবারেই অনুচিত। গরমের সময়ের মতই শীতকালেও রোদের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে শীতের সময়ে ত্বক শুষ্ক হয়ে থাকায়, রোদের রশ্মি বেশি ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি করে ত্বকে। সে কারণে, দিনের বেলায় বাইরে বের হবার সময়ে অবশ্যই মনে করে মুখের ত্বকে ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

হাতের প্রতিও হতে হবে যত্নবান

মুখের ত্বকের যত্ন নেওয়ার কথা মনে রাখলেও অনেকেই নিজের হাতের ত্বকের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে একেবারেই ভুলে যান। শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের চাইতে হাতের ত্বক বেশ পাতলা হয়ে থাকে। এছাড়াও, হাতে থাকে খুব কম সংখ্যক তেলগ্রন্থি। শীতকালীন সময়ে যা হাতের পরিপূর্ণ কোমলতা রক্ষা করতে পারে না। এই সকল কারণে, শীতের সময়ের মুখের ত্বকের পাশাপাশি হাতের ত্বকের প্রতিও যত্নবান হতে হবে। যেকোন কাজ শেষে হাত ধোয়ার পরে অবশ্যই ভালো কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। শীতের প্রকোপ অনেক বেশী দেখা দিলে হাতে উলের গ্লভস পরার অভ্যাস করতে হবে। এতে করে সরাসরি ঠাণ্ডা হাওয়া হাতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে না।

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে

সঠিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ও ত্বকের সঠিক পরিচর্যা করার পরেও ত্বক ফেটে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করা হলে। শীতের সময়ে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় শরীরে পানির চাহিদা বেশি দেখা দেয়। যে কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করা হলে শরীরে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। যা শুধুমাত্র ত্বকের উপরেই নয়, শরীরের উপরেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শীতকালে শুধুমাত্র গরম কফি বা চা পান করাই যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার ব্যাপারেও সচেতন থাকতে হবে।

ফেসিয়ালের পরিবর্তে ফেসপ্যাক ব্যবহার করা

ফেসিয়ালে সাধারণত বিভিন্ন ধরণের উপাদান ও স্ক্রাবার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শীতকালে ত্বক নাজুক অবস্থায় থাকে বলে ফেসিয়াল করার ফলে ত্বকের উপকারের পরিবর্তে অনেক সময় বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। কারণ, ফেসিয়ালের পরবর্তি সময়ে ত্বক অনেকটা রুক্ষ হয়ে ওঠে। যে কারণে শীতকালীন সময়ে ফেসিয়াল না করে ঘরোয়া উপাদান দিয়ে বিভিন্ন ধরণের ফেসপ্যাক তৈরি করে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে। বিশেষ করে দুধ দিয়ে তৈরি যেকোন ধরণের ফেসপ্যাক শীতের সময়ে বেশী কার্যকরি হয়ে থাকে।

অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করা থেকে বিরত থাকুন

শীতকালে গরম পানি দিয়ে গোসল করা স্বাভাবিক। তবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন, পানি অনেক বেশী গরম যেন কোনভাবেই না হয়। কারণ প্রয়োজনের চাইতে বেশী গরম পানি লিপিড ব্যারিয়ার ভেঙে ত্বকের ময়েশ্চার একেবারেই নষ্ট করে দিতে পারে। যে কারণে গোসল কিংবা হাত-মুখ ধোয়ার সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। যা স্বাভাবিকভাবে ত্বকে সহনশীল। একইসাথে মনে রাখতে হবে, পানি ব্যবহার শেষে তোয়ালে দিয়ে পানি শুকিয়ে ভালো কোন লোশন ব্যবহার করতে হবে।

নিজের ত্বকের ধরণ বোঝার চেষ্টা করুন

এটা হলো সবচাইতে বেশী জরুরি একটি ব্যাপার। কারণ নিজের ত্বকের ধরণ বুঝতে না পারলে সঠিক ময়েশ্চারাইজার ও সঠিক ফেসপ্যাক ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। যার ফলে যতই ময়েশ্চারাইজার বা ফেসপ্যাক ব্যবহার করা হোক না কেন, ত্বক তার সঠিক ও প্রয়োজনীয় যত্ন পাবে না। যে কারণে বোঝার চেষ্টা করতে আপনার ত্বকের ধরণ কেমন। তৈলাক্ত, শুষ্ক নাকি মিশ্র।

সবসময় মধু রাখুন নিজের কাছে

সবশেষে, দারুণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটি সবসময় ঘরে রাখার চেষ্টা করুন। ত্বকের শুষ্কভাব কমাতে এবং ত্বকের কালো দাগ দূর করতে মধু অনন্য একটি উপাদান। মধুর সাথে চিনি মিশিয়ে সমস্যাযুক্ত স্থানে মাখালে প্রদাহ কমে এবং ত্বকের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *