Wednesday , March 28 2018
Home / রুপচর্চা / ডার্ক সার্কেল দূর করতে আলুর ভিন্নধর্মী ব্যবহার

ডার্ক সার্কেল দূর করতে আলুর ভিন্নধর্মী ব্যবহার

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথেই মুখের ত্বক তার স্বাভাবিক নমনীয়তা এবং আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। যার প্রভাব দেখা দিতে থাকে মুখের ত্বকে। বিশেষ করে চোখের নীচের ত্বকে। কারণ, সময়ের সাথে সাথে চোখের নীচে কালো দাগ দেখা দিতে শুরু করে। যাকে বলা হয়ে থাকে ডার্ক সার্কেল। শুধুমাত্র বয়স বৃদ্ধির ফলেই নয় ডার্ক সার্কেল দেখা দিতে পারে আরও নানান কারণে। ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, অনেক বেশি সময় ধরে টিভি ও কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার মতো কারণেও ডার্ক সার্কেল দেখা দিয়ে থাকে।

অনেকেই জানেন যে, আলু চোখের নীচের এই কালো দাগ দূর করার ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। তবে সঠিক উপায়ে আলু ব্যবহার না করলে ডার্ক সার্কেল কখনোই পুরোপুরিভাবে দূর হবে না। কীভাবে আলু ও আলুর সাথে অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করলে ডার্ক সার্কেলের সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে সেটা বর্ননা করা হলো।

কাঁচা আলুর রস

শুধু আলুর রসেই রয়েছে ভিটামিন- সি, এ এবং অন্যান্য এনজাইম। যা ত্বকের জন্যে উপকারী এবং ত্বকের কালো ভাব দূর করতে কাজ করে থাকে।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে

আলু ছিলে নিয়ে ভালোভাবে ছোট কুচি করে নিতে হবে। কুচি করা আলু থেকে ভালোভাবে চিপে রস বের করে নিতে হবে। এই রস এক ঘন্টার জন্যে রেফ্রিজারেটরে রেখে ঠাণ্ডা করতে হবে। এরপর এই রসে তুলার বল ভিজিয়ে নিয়ে চোখের নীচের অংশে তুলার বলগুলো রেখে দিতে হবে ১৫-২০ মিনিট সময়ের জন্য। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নিয়ে তলায়ের সাহায্যে পানি শুকিয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন একবারের জন্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে যতদিন না পর্যন্ত ডার্ক সার্কেল দূর হচ্ছে।

আলুর স্লাইস

ডার্ক সার্কেলের সমস্যা দূর করার জন্যে এটা অন্যতম সহজ একটি উপায়। এর জন্যে প্রথমে একটি আলু এক ঘণ্টার জন্যে রেফ্রিজারেটরে রেখে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। ঠাণ্ডা আলুর মাঝ বরাবর কেটে দুইটি পাতলা স্লাইস তৈরি করতে হবে। পাতলা করে কাটা এই আলুর স্লাইস দিয়ে ভালোভাবে দুই চোখ ঢেকে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, চোখের নীচের অংশ যেন ভালোভাবে আবৃত থাকে। এইভাবে ২০ মিনিট রেখে দেবার পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে। দ্রুত ফলাফল পেতে চাইলে এক দিনের মাঝে দুইবার আলুর স্লাইস এইভাবে ব্যবহার করতে হবে।

আলু এবং শসার মিশ্রণ

শসাতে রয়েছে কোলাজেন। যা এক ধরণের প্রোটিন। এই কোলাজেন ত্বককে টানটান করতে এবং ত্বকে উজ্জ্বলভাব তৈরি করতে সাহায্য অরে থাকে। এছাড়া, এতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যাসট্রিজেন্ট, যা ত্বকের কালো দাগকে দ্রুত দূর করতে কাজ করে। একইসাথে শসার ৯৫ শতাংশ পানি বলে, এটা ত্বককে কোমল রাখতেও সাহায্য করে থাকে। আলু এবং শসা একইসাথে মিশিয়ে চোখের জন্য প্যাক তৈরি করলে সেট খুব ভালো কার্যকরী হয়ে থাকে।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে

একটি আলু গ্রেট করে সেটা থেকে রস তৈরি করে নিতে হবে। একটি শসার মাঝের নরম অংশ বের করে আলুর রসের সাথে মেশাতে হবে। এরপর এ মিশ্রণটি রেফ্রিজারেটরে রেখে দিতে হবে। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এই মিশ্রণটি চোখে মাখিয়ে ২০ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। নরম কাপড় কিংবা তুলার সাহায্যে চোখ থেকে মিশ্রণ তুলে এরপর ঠাণ্ডা পানির সাহায্যে চোখ ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ বার এই পদ্ধতিতে মিশ্রণ ব্যবহার করতে হবে।

আলু, মধু ও অলিভ অয়েল

মধুতে রয়েছে প্রদাহ বিরোধী উপাদান সমূহ। যা ত্বককে আরাম প্রদান করে থাকে। এছাড়া অলিভ অয়েলে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ, ভিটামিন সমূহ এবং প্রদাহবিরোধী উপাদান সমূহ যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। একসাথে এই সকল উপাদান মেশানোর ফলে ত্বক ও চোখের ত্বকের জন্য উপকারী একটি মিশ্রণ তৈরি হয়।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে

একটি আলু টুকরা করে কেটে তার সাথে এক চা চামচ মধু এবং দুই চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এরপরে ঘন পেষ্টের মতো মিশ্রণ তৈরি হবে। এই পেষ্ট চোখের নিচে ভালোভাবে মাখিয়ে ৩০ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে চোখের ভেতরে যেন এই পেষ্ট প্রবেশ না করে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হবে এই পেষ্ট।

আলু ও লেবুর রস

লেবুর রসে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান, যা চোখের ডার্ক সার্কেল কমাতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়া, ত্বককে উজ্জ্বল করতে, ত্বকে পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করে লেবুর রস।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে

একটি আলু ভালোভাবে ব্লেন্ড করে তাতে চার টেবিল চামচ পরিমাণ লেবুর রস মেশাতে হবে। এই মিশ্রণটি এক ঘন্টার জন্য রেফ্রিজারেটরে রেখে দিতে হবে। মিশ্রণ ঠাণ্ডা হয়ে গেলে চোখে মাখিয়ে ১৫ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা পানির সাহায্য চোখ ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ বার এই পদ্ধতিতে চোখে মিশ্রণ ব্যবহার করতে হবে।

আলু ও টমেটো

টমেটোতে রয়েছে লেবুর রসের মতোই প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান। যা ত্বকের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে কোমল করে। এতে রয়েছে লাইকোপেন, যা এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ডার্ক সার্কেল কমাতে সাহায্য করে থাকে। একইসাথে টমেটোতে থাকা ভিটামিন-এ ত্বকের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে থাকে।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে

একটি আলু ও একটি টমেটো কুচি করে কাটতে হবে। একইসাথে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পেষ্ট তৈরি করতে হবে। তৈরিকৃত পেষ্ট চোখে ভালোভাবে মাখিয়ে ২০ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। ভালো ফলাফল পাবার জন্য একদিন পরপর এই পেষ্ট ব্যবহার করতে হবে।

আলু ও কাঠবাদাম  

কাঠবাদামে থাকা প্রদাহ বিরোধী উপাদান চোখের নীচের ফোলাভাব দূর করতে এবং চোখের চারপাশের ডার্ক সার্কেল ভালো করতে সাহায্য করে থাকে। একইসাথে কাঠবাদামে রয়েছে প্যালমিটিক অ্যাসিড এবং রেটিনল। যা চোখের চারপাশের নরম ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী।

যেভাবে ব্যবহার করতে হবে

৩-৫ টি কাঠবাদাম সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে ভিজিয়ে রাখা কাঠবাদাম এবং আলু ব্লেন্ডারে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। তৈরিকৃত মিশ্রণ তুলার বলের সাহায্যে চোখে মাখিয়ে ২০ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা পানির সাহায্যে চোখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। দ্রুত ফলাফল পাওয়ার জন্যে একদিন পরপর এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *