Wednesday , March 28 2018
Home / বাংলাদেশ / এরশাদের স্ত্রী-বান্ধবীদের হালচাল!

এরশাদের স্ত্রী-বান্ধবীদের হালচাল!

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। সাবেক স্বৈরাশাসক ও রাষ্ট্রপতি। নিজেকে ‘কবি’ হিসেবেও দাবি করেন। ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান।‘রোমান্টিক’ এ রাজনীতিকের জীবনে একাধিক নারীর আগমনের খবর ওপেন সিক্রেট। তার মধ্যে চারজনের সাথে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

তবে বর্তমানে সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ ছাড়া বাকিরা নেই এরশাদের জীবনে। এদের কেউ মারা গেছেন, কেউ বিদেশে, কেউ দেশে থেকেও না থাকার তালিকায়।

এরশাদের কথিত স্ত্রী হিসেবে যে তিনজন পরিচিতি পেয়েছিলেন তার মধ্যে মেরি, জিনাত মোশাররফ ও বিদিশা ইসলাম। এর মধ্যে বিদিশাকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। যদিও শেষতক তাকে ছেড়ে দিয়েছেন এরশাদ। বর্তমানে তিনি ‘একাকিত্ব’ জীবন কাটাছেন। কারণ, এখন এরশাদ ও রওশন দু’জন দু’বাসায় থাকেন। একান্ত প্রয়োজন বা রাজনৈতিক যোগাযোগ ছাড়া তাদের মধ্যে তেমন কোনো যোগাযোগ নেই।

১৯৮৬ সালে তৎকালীন জনপ্রিয় সাপ্তাহিক পত্রিকা যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান তার সাপ্তাহিকের মাধ্যমে এরশাদের মেরিকে বিয়ে করার বিষয়টি সবিস্তারে সামনে নিয়ে আসেন। তাদের বিয়ের তথ্য প্রমাণসহ প্রকাশিত সংবাদের কারণে সাংবাদিক শফিক রেহমানকে প্রায় চার মাস জেলও খাটতে হয়।

যদিও এরপর থেকে কখনো মেরিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। কথিত আছে এরশাদ সে সময়ে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি চুকিয়ে নিয়ে মেরিকে লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে এক সন্তানের জননী মেরি লন্ডনে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

এরশাদের অনেক বান্ধবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে জিনাত মেশাররফের নাম। ক্ষমতায় থাকাকালে জিনাতের সঙ্গে এরশাদের পরকীয়া ছিল অনেকের মুখে মুখে। তার নামের সঙ্গে মিল রেখে জিনাত মোশাররফ নতুন নামকরণ করেছিলেন জিনাত হুসেইন! তার সঙ্গে পরকীয়া নিয়ে দৈনিক সংবাদের সাংবাদিক রাশেদ আহমদের কাছে খোলামেলা সাক্ষাৎকার দেন এরশাদ। এতে ঘর ভাঙে জিনাতের। ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় সাবেক মন্ত্রী মোশাররফের সঙ্গে।

আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করলে এরশাদের ইচ্ছায় সংরক্ষিত আসনে মহিলা সংসদ সদস্য হন জিনাত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিনাত মোশাররফ বর্তমানে স্থায়ীভাবে লন্ডনে বসবাস করছেন। এরশাদের সাথে এখন আর তার যোগাযোগ নেই।

এরপর নিজ বয়সী কবি আবু বকরের মেয়ে বিদিশা ইসলামের প্রেমে পড়েন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। প্রায় ছয় বছরের পুরো জেল জীবনে বিদিশার সাথে প্রেম করে ২০০০ সালে ঘোষণা দেন যে তিনি বিদিশাকে বিয়ে করেছেন। সেদিন ছিল তাদের ছেলের প্রথম জন্মদিন।

বিদিশাকে নিয়ে স্বল্পস্থায়ী সংসারে এরশাদের জটিলতা না কমে বরং বাড়তে থাকে। চার দলীয় জোট সরকারের সময় বিদিশাকে তালাক দিয়ে তিনি চুরির মামলায় জেলে পাঠান। চুকে যায় তখনকার মতো এরশাদ-বিদিশা পর্ব।

বিদিশা ইসলাম এখন স্থায়ীভাবে ঢাকাতেই বসবাস করেন। রাজনীতি না করলেও এরশাদের জাপার বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার সাথে তার যোগাযোগ আছে। এমনকি এরশাদের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখেন বিদিশা। এরশাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগে বিদিশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে জানা যায়।

গত একবছরে এরশাদের প্রায় প্রতিটি ভারত সফরের সময়েই বিদিশা সে দেশে অবস্থান করেছেন।

উল্লেখ্য, গত এক বছরে ১০/১২ বার এরশাদ ও বিদিশা নানা প্রয়োজনে ভারত সফর করেছেন। রোমান্টিক পুরুষ এরশাদের প্রেমিকার তালিকায় আলোচিত ছিলেন শাকিলা জাফর, নাশিদ কামাল, নীলা চৌধুরী, সালমা বীল হেনা, আমেনা বারী প্রমুখ।

রওশন এরশাদের গর্ভজাত এরশাদের বড় ছেলে সাদ এরশাদ ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে বিয়ে করে বসবাস করছেন মালয়েশিয়ায়। আর বিদিশা ইসলামের গর্ভজাত এরিক এরশাদ ঢাকাতেই বাবা-মা দু’জনের সাথেই ভাগাভাগি করে বসবাস করছেন। তবে ছেলে এরিক মাসের বেশিরভাগ সময় বাবার সাথেই থাকেন বলে জানা গেছে।

এরশাদের বহুবিবাহ বা চারিত্রিক স্খলন নিয়ে তার নিজ দল বা পরিবারের কেউ মুখ খুলতে যান না। আলোচনাও করতে চান না।

এরশাদের পরিবারের এক ঘনিষ্ট সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এরশাদের সাথে ভেতর ভেতর যোগাযোগ থাকলেও বিদিশার সাথে এরশাদের পরিবারের কারোর কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি সাদ ও এরিকের সাথেও এরশাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের যোগাযোগ নেই।

তিনি বলেন, এরশাদের এক ছেলে সামান্য অসুস্থও।

এক সময়ে এরশাদ সরকারের সচিব ও পরে মন্ত্রী এমন একজন পরিবর্তন ডটকমকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এরশাদের বহুবিবাহ ও বহুগামিতা নিয়ে নিজের কোনো অনুশোচনা নেই।

এসবের মাঝে গত বছর আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্যান্ডালে জড়ান এরশাদ। সাথী নামের এক আইনজীবীর সাথে ৮৮ বছর বয়সী এরশাদের ঘনিষ্ট ছবি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুক টুইটারে। অনেকে মন্তব্য করেন সাথী এরশাদের নতুন বান্ধবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *