Thursday , March 29 2018
Home / আন্তর্জাতিক / মগের মুল্লুকে পরিনত করতেছে আরাকান ! কারন জানলে অবাক হবেন

মগের মুল্লুকে পরিনত করতেছে আরাকান ! কারন জানলে অবাক হবেন

চোখে মুখে ভয়-আতঙ্ক। এই রকম অবস্থায় খুব বিপদে আছে আরাকান বাসী  ।বুকফাটা কান্না আর আহাজারি। রোহিঙ্গা মুসলমানরা মাতৃভ‚মি মিয়ানমারের আরাকানে  বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন এবং আত্মীয়-প্রতিবেশীদের লাশ পেছনে ফেলে শুধুই জীবন আর ইজ্জত-আব্রুটুকু বাঁচানোর তাগিদে অবিরত ছুটে আসছে সীমান্তের দিকে।
আরাকানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বিজিপি, গোয়েন্দা, পুলিশ ও উগ্র মগদস্যুদের জ্বালাও-পোড়াও আর গণহত্যার নারকীয় তান্ডব অব্যাহত রয়েছে। বাস্তব অর্থেই ‘মগের মুল্লুকে’ পরিণত হয়েছে আরাকান। পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নিরস্ত্র-নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাইকারীভাবে ধরে ধরে গুলি চালিয়ে কিংবা ঘরবাড়িতে বোমা মেরে পেট্রল ও গানপাউডার দিয়ে আগুন লাগিয়ে হত্যাযজ্ঞ বেড়েই চলেছে। অবর্ণনীয় পাশবিক কায়দায় নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে তাদেরকে বিতাড়িত করা হচ্ছে স্বদেশের মাটি থেকে।
অতীতে ১৯৭৭-৭৮, ১৯৯১-৯৬, ২০১২ এবং গত বছর ২০১৬ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন, হত্যাকান্ড ও বিতাড়িত করতে দমনাভিযান পরিচালিত হয়েছিল। কিন্তু গত ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ইতিহাসের এই বর্বরতম নির্মূল অভিযানের মুখে রোহিঙ্গাদের আরাকানে ‘বেঁচে থাকা’ এবং ‘টিকে থাকা’র সম্ভাবনা যেন ফুরিয়ে আসছে। এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন কোনোমতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এবং মানবাধিকার কর্মীরা।
মসজিদ, মাদরাসা, দোকান-পাট, গৃহপালিত পশু-পাখি, ধান-চালের গোলাসহ সবকিছুই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমার শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে সেনাবাহিনী পূর্ব-পরিকল্পনা মাফিক রোহিঙ্গা জনসংখ্যা-বহুল একেকটি এলাকা বিভক্ত করে ‘ব্লক রেইড’ দিয়ে চালাচ্ছে দমন-পীড়নের তথাকথিত এই অভিযান। বিভিন্ন সূত্রে আরো জানা গেছে, বর্মী সেনাবাহিনী আরাকানের (রাখাইন) মংডু জেলার পাঁচটি প্রশাসনিক এলাকাকে ‘সামরিক অভিযানের এলাকা ঘোষণা করেছে। এগুলো হচ্ছে- মংডু জেলার মংডু সদর, বুচিডং, রাচিডং, তমব্রু-বাম ও মিনলুট। এসব অঞ্চলে সেনা নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এতে করে আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে সেনাভিযান।
এ অবস্থায় টিকে থাকতে না পেরে আরাকানের বিশেষত উত্তর-পশ্চিম দিকে সীমান্তের গহীন ও দুর্গম পাহাড়-জঙ্গল, নদ-নদীতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কমপক্ষে তিন লাখ রোহিঙ্গা। নিরাপত্তা ক্যাম্পে ও নিজেদের বসতবাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে আছে আরো কয়েক লাখ। সূত্রগুলো জানায়, আগস্ট থেকে পরিচালিত গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গার সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর গুম ও ধর্ষণের শিকার হয়েছে অগণিত। পালাতে চাইলেও গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে পশু-পাখি শিকারের মতো! স্বদেশ থেকে সমূলে উৎপাটিত বিপন্ন রোহিঙ্গাদের ঢলে সীমান্তের ওপারে-এপারে এক অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *