Friday , January 19 2018
Home / আন্তর্জাতিক / সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গিকার এরদোগান-বশিরের

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গিকার এরদোগান-বশিরের

সন্ত্রাস বিরোধী লড়াইয়ে সুদান ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সুদান সফরকালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ও সুদানের রাষ্ট্রপ্রধান ওমর আল বশিরের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। খবর ডেইলি ন্যাশনের।

এ সময় দুই নেতা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুদানের সোয়াকিন দ্বীপ ও তার মধ্যে উদ্যান পুনঃনির্মাণের জন্য তুরস্ককে দিয়ে দিবে সুদান। রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ কথা বলেন সুদানের রাষ্ট্রপ্রধান ওমর আল বশির।

তুর্কি রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু নিউজ এজেন্সি খবরে জানা যায়, সুদানের সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিসর আরো বাড়াবে তুরস্ক।

রাষ্ট্রীয় সফরে গত রবিবার সুদান পৌঁছানোর পর দেশটির সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগাান। এছাড়া কৌশলগত সহযোগিতা বিষয়ক একটি কাউন্সিল গঠনেও দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

পূর্ব জেরুসালেমে তুর্কি দূতাবাস খোলার ঘোষণা এরদোগানের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, তিনি পূর্ব জেরুসালেমে একটি তুর্কি দূতাবাস খুলতে চান।

জেরুসালেমকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে সেখানে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেবার কথা বলার পর এ কথা বললেন এরদোগান। খবর বিবিসির।

ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর তার কড়া নিন্দা করেছিলেন এরদোগান। অন্যান্য দেশ থেকেও এর নিন্দা করা হয়।

এরদোগান বলেন, অল্পদিনের ব্যবধানেই আমরা পূর্ব জেরুজালেমে তুর্কি দূতাবাস খুলব।

ইসরাইল বর্তমানে জেরুসালেম শহরের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে, এবং একে তারা ইসরাইলের অবিভাজ্য রাজধানী হিসেবে গণ্য করে। এরদোগান কি ভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবেন তা নিশ্চিত নয়।

তবে জেরুসালেমে ইতিমধ্যেই তুরস্কের একটি কনস্যুলেট রয়েছে – একথাও মনে করিয়ে দেন তুরস্কের নেতা।

গত সপ্তাহে মুসলিম দেশগুলেঅর একটি শীর্ষ বৈঠকে আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন তারা পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

অন্যদের উপকারের জন্যেই আজকে মধ্যপন্থী ইসলামের সুর তোলা হচ্ছে: এরদোগান

মুসলিম বিশ্ব ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। তিনি বলেন, অন্যদের উপকারের জন্যই আজকে ইসলামের পুনর্নির্মাণের সুর তোলা হচ্ছে।

শনিবার ইস্তাম্বুলে ৭ম হাদিস এবং সিরা স্টাডিজ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এরদোগান এসব কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, ‘এক শতাব্দী ধরে ইসলামি বিশ্ব ইসলামের পুনর্নির্মাণ প্রচেষ্টার মুখোমুখি হচ্ছে আর মুসলিম ভাইদের মধ্য রক্তপাত, অশ্রুপাত এবং দ্বন্দ্বের জন্ম দিচ্ছে।’

মুসলিমদের মধ্য থেকেই রক্তপাতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সতর্ক করে এরদোগান এর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘মুসলমানরা যখন বিভক্ত হয়ে যায়, তখন এর সুযোগ নেয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এবং ইসরাইলের মতো দেশ; যেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসকে ব্যবহার করে।’

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এরদোগান তার নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও, শনিবার ইবোলা প্রদেশে ক্ষমতাসীন জাস্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে) প্রাদেশিক কংগ্রেসেও বক্তব্য রাখেন এরদোগান।

প্রাদেশিক কংগ্রেসে দেয়া বক্তৃতায় এরদোগান জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘ এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নিলে আমরা আইনি কাঠামোর মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’

‘প্যালেস্টাইনের জন্য তুরস্কের সমর্থন’

এরদোগান বলেন, ‘প্যালেস্টাইন বা জেরুজালেমকে রক্ষায় তুরস্ক তার সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে কারণ ইসরাইল অবৈধভাবে এটিকে নিজেদের দখলে নিতে চায়।’

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা বসনিয়া, ককেশাসে এবং বিশ্বব্যাপী আমাদের মুসলিম ভাই ও বোনদের সমর্থন করেছি। আজো আমরা একইরকমভাবে সমর্থন করে যাচ্ছি এবং তা আরো জোরালোভাবে এবং আরো দৃঢ়ভাবে এবং আমরা তা ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করেছে। এই কারণে আমরা এই কাজটি কখনো ছেড়ে দেব না।’

এরদোগান আরো বলেন, তুরস্ক সিরিয়াতে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেবে না এবং সাম্প্রদায়িকতা এবং জাতিগত ভিত্তিতে ইরাকের বিভক্তিকে মেনে নেব না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশকে, আমাদের জনগণকে অপমানিত করে এমন কোনো বিষয়ে আমরা ইইউ, ন্যাটো বা অন্য কোনো শক্তিকে অনুমতি দেব না।’

তিনি বলেন, ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি ফিলিস্তিনিদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানোর জন্য ইসরাইলকে পুরস্কৃত করার সমতুল্য।

Check Also

নারী ও শিশু খুন হয়েছে হংকংয়ের বিলাসবহুল হোটেলে

হংকংয়ের বিলাসবহুল হোটেল রিটজ কার্লটনে এক নারী ও এক শিশুকে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *