Friday , October 13 2017
Home / আন্তর্জাতিক / ধর্ষনের শিকার রহিঙ্গা নারীরা ! জোর করে করা হচ্ছে তাদের অমানবিক নির্যাতন

ধর্ষনের শিকার রহিঙ্গা নারীরা ! জোর করে করা হচ্ছে তাদের অমানবিক নির্যাতন

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নারীদের এ বিপুল সংখ্যা বাস্তব পরিস্থিতির নমুনামাত্র বলে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের জনসংখ্যা বিষয়ক তহবিল (ইউএনএফপিএ)। সংস্থাটির আশঙ্কা, প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমারে যৌন নিপীড়নের শিকার নারীর সংখ্যা আরো অনেক বেশি। ‘লজ্জা’ ও ‘নিরাপত্তা সঙ্কটের’ ভয়ে অনেকে তাদের নিপীড়িত হওয়ার কথা জানাচ্ছে না বলে ধারণা করছে ইউএনএফপিএ।
মানবিক সঙ্কট ও জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নিয়ে কাজ করে থাকে ইউএনএফপিএ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৪ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও বালিকা। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার নারী প্রজননক্ষম বয়সসীমায় আছে। আর ২৪ হাজার নারীর মধ্যে কেউ কেউ অন্তঃসত্ত্বা আবার কেউ কেউ নবজাতকের মা। ইউএনএফপিএ জানায়, ৭ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নারী শরণার্থীকে তারা চিকিৎসা ও মানসিক পরামর্শসেবা দিয়েছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ, পরিচয় গোপনের ইচ্ছা, লজ্জা এবং তথাকথিত কলঙ্কের ভয়ে অনেকে তাদের নিপীড়নের কথা জানাতে চান না। আর সেকারণে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার যথাযথ সংখ্যা বের করাটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।’

রাখাইনে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মিয়ানমারের সেনা নেতৃত্বকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হেলি। রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নিকি হেলি এ আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথমবারের মতো রাখাইনে দমন-পীড়নের পেছনে জড়িত সেনা নেতৃত্বকে শাস্তির মুখোমুখি করার কথা বলেছে। কিন্তু বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় মিয়ানমারের ওপর থেকে তুলে নেয়া বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা নতুন করে আরোপের যে হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দিচ্ছিল, সে প্রসঙ্গ আর টানেননি হেলি।
 
বৈঠকে তিনি বলেন, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ একটি নৃগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে যে নির্মম অভিযান চালাচ্ছে সে কথা বলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বিধা থাকা উচিত নয়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অবশ্যই মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদের অবশ্যই দায়িত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং অপরাধের জন্য বিচারের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করছে এমন যেকোনো দেশের উচিত, মিয়ানমার পর্যাপ্ত জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নেয়ার আগ পর্যন্ত তা বন্ধ রাখা।
 
কথিত রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের সহিংসতার মুখে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে জাতিসঙ্ঘ।
রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া না মেলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেন, মিসর, সেনেগাল ও কাজাখস্তানের অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদ এই বৈঠকে বসে।
 
বৈঠকে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বলেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতা মধ্যাঞ্চলেও বিস্তৃত হতে পারে। ফলে সেখানেও আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
 
রাখাইনে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অবিলম্বে ত্রাণ সংস্থাগুলোকে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। জাতিসঙ্ঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তিনি উদ্বেগ জানিয়েছেন। এই সঙ্কটের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোসহ পুরো অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক অসন্তোষের ঝুঁকি দেখা দেয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছেন জাতিসঙ্ঘ মহসাচিব।

Check Also

পুনমের যে ভিডিও নিয়ে ইউটিউব তোল্পাড় … দেখুন

ডেইলিসকাল ডেস্ক: অনেক দিন ধরেই ট্ইুটারে আমার ভক্তদের অভিযোগ ছিল নিয়মিত কেন ভিডিও আপলোড করি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *