Thursday , March 29 2018
Home / আন্তর্জাতিক / ঘাস ও পানি খেয়ে বেছে আছে রোহিঙ্গা মুসলিম রা : রয়টার্স

ঘাস ও পানি খেয়ে বেছে আছে রোহিঙ্গা মুসলিম রা : রয়টার্স

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে।aavv
 
সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে এখনও যারা পালিয়ে যেতে পারেনি, তাদের বনজঙ্গলে লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে। সেখানে ঘাস আর পানি খেয়ে বেঁচে আছে তাঁরা।vv
 
মংডু গ্রামের একজন শিক্ষক রয়টার্সকে বলেছেন, “৮০০টি পরিবারের মধ্যে এখন আছে মাত্র ১০০টির মতো পরিবার। যারা রয়ে গেছে তাদেরকে সেনাদের সঙ্গে লুকোচুরি করে থাকতে হচ্ছে। কারণ সেনারা সকালে গ্রামে আসে। সেনারা গ্রামে আসলে তারা জঙ্গলে লুকিয়ে পড়ে এবং রাতে বাড়িতে ফিরে আসে।”
 
এই শিক্ষক বলেন, “আজ সন্ধ্যায় খাওয়ার মতো কোনও খাবার নেই আমাদের। কী করার আছে? আমরা জঙ্গলের কাছাকাছি থাকি। সেখানে অনেক ঘাস রয়েছে; যা আমরা খাচ্ছি। এরপর একটু পানি সংগ্রহ করে পান করছি। এভাবেই বেঁচে আছি আমরা।” সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলার সরকারি নির্দেশনা থাকায় ওই শিক্ষকের নাম প্রকাশ করেনি রয়টার্স।
 
সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের পুড়িয়ে দেওয়া রোহিঙ্গা বসতবাড়িগুলোতে সৃষ্ট বিরাণভূমিতে দেখা গেছে, সেখানে কয়েকশ গরু চষে বেড়াচ্ছে। জvvমিতে রোপণ করা ধানের চারা খাচ্ছে। ক্ষুধার্ত কুকুরগুলো ছোট ছোট ছাগল খাচ্ছে। এক সময় রোহিঙ্গা মুসলিমদের পদচারণায় মুখর স্থানীয় মসজিদ, বাজার ও স্কুল এখন একেবারে নীরব।
 
 
 
রাখাইনের উত্তররাঞ্চলে সেনাবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরমধ্যেই সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্রভাবে সহিংসতাকবলিত অঞ্চলটিতে সরেজমিন প্রত্যক্ষ করা হয়। কোনও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের পক্ষে রাখাইনে এটিই প্রথম সরেজমিন প্রতিবেদন।
 
রয়টার্সের প্রতিনিধিরা উত্তর রাখাইনের মংডু, বুথিয়াডাউং ও রাথেডাউং এলাকায় দুবার গিয়েছেন। তারা মংডু থেকে সবচেয়ে বেশি সহিংসতাকবলিত এলাকাvv কিয়েইন চাউং এলাকায় সড়ক পথে গাড়ি চালিয়ে গেছেন। প্রতিনিধিরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে খুব কম কথা বলেছেন। কারণ বহিরাগত কারও সঙ্গে কথা বলতে তারা ভয় পাচ্ছে। বেশিরভাগ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে ফোনে সেই এলাকাগুলোতে যেখানে সেনাবাহিনীর অভিযান চলছে না।
 
২৫ আগস্ট শুরু হওয়া সহিংসতায় অসংখ্য রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছে। আর পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা। অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
 
রয়টার্সের প্রতিনিধি মংডু’র উত্তরে ইয়ে খাট চাউং গয়া সন গ্রামটি পরিদর্শন করেন। গ্রামটির বাসিন্দা সুয়াইদ ইসলাম (৩২) এখন বাংলাদেশের কক্সবাজারে একটি রোহিঙ্গা শিবিরে রয়েছেন। টেলিফোনে তিনি রয়টার্সকে vv, “সেনাবাহিনী ও পুলিশ আমাদের খুঁজে পেলে গুলি করতে পারে বলে আমরা আতঙ্কিত। তাই আমরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছি।”
 
সুয়াইদ ইসলামের গ্রামের বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানান, ২০১৬ সালে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। যারা পালিয়ে যেতে পারেনি তারা অস্থায়ী কুঁড়েঘরে থাকছে। ত্রাণ সংস্থাগুলোর দেওয়া খাবার খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।
 
নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, উত্তর রাখাইনের ২১৪টি গ্রামের vvhহাজার বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।
 
রয়টার্সের নেওয়া সক্ষাৎকার ও স্যাটেলাইট ছবিতে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে দেখা গেছে, মংডু’র বিশাল এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ উপকূলীয় এলাকার ১০০ কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে বেশিরভাগ বাড়ি জ্বালিয়ে দেওhয়া হয়েছে।
 
মংডু শহরে রাখাইন বৌদ্ধ, রোহিঙ্গা মুসলিম ও হিন্দুদের বাস ছিল। এইচআরডব্লিউ জানিয়েছেhhh, হামলার প্রথম সপ্তাহেই শহরটিতে থাকা রোহিঙ্গাদের ৪৫০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। শহরটিতে বসবাসরত মোহাম্মদ সালেম টেলিফোনে রয়টার্সকে জানান, যারা খাবার জমিয়ে রেখেছিল তারা তা বিক্রি করে বাংলাদেশ পালিয়ে যাচ্ছে।
 
রাথেডাউং এলাকাতেও hhও রোহিঙ্গাদের বাস ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও ত্রাণকর্মীদের মতে, সেখানে ২১টির মধ্যে ১৬টি রোহিঙ্গা গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটি গ্রামে খাবার ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাসিন্দারা রাখাইhনদেhhhর হুমকির মুখে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *