Wednesday , March 28 2018
Home / অন্যান্য / স্ত্রীর স্তনে ক্যান্সার হওয়ায় তাড়িয়ে দিয়েছেন স্বামী!

স্ত্রীর স্তনে ক্যান্সার হওয়ায় তাড়িয়ে দিয়েছেন স্বামী!

জীবনে অসুস্থতা কাউকে বলে কয়ে আসে না। ইহা শরীরের নানাবিধ সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হল একে অপরের সুখ-দুঃখের সাথী। স্বামী অসুস্থ হলে স্ত্রী তার সেবা করবে, আবার স্ত্রী অসুস্থ হলে স্বামী তার সেবা করবে, এভাবেই তারা একে অপরের পাশে থাকবে। কিন্তু এখন হয়েছে তার উল্টোটা, স্ত্রীর কিছু হলে স্বামী তাকে তাড়িয়ে দেয়। ঠিক যেমনটি হয়েছে লিন্ডার সাথে। লিন্ডা তিন সন্তানের জননী। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন তার স্বামী। এ অবস্থায় স্বামী ও সংসার হারিয়ে একাকী জীবনযাপন করছেন তিনি। শুধু লিন্ডা নন, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় আলজেরিয়ার হাজার হাজার নারীর জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। সম্প্রতি দেশটিতে স্তন ক্যান্সার নিয়ে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

আফ্রিকা মহাদেশের দেশটিতে প্রতি বছর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বামী বা হবু বর ও পরিবারের কাছ থেকে সমর্থন না পাওয়ায় বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে তাদের সার্বিক জীবনধারা।

নূর দোহা ক্যান্সার চ্যারিটির প্রধান সাময়া গেসমি বলছেন, ‘স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত অধিকাংশ নারীকেই স্বামীরা ডিভোর্স দিয়ে দিচ্ছেন। হবু বর বিয়ে ভেঙে দিচ্ছেন। প্রেমিক ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। পরিবার থেকে যে সমর্থন পাওয়ার কথা তাও পাচ্ছেন না। এতে সেসব নারীর জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। অনেকেই খেয়ে না খেয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।’

আলজেরিয়ায় স্তন ক্যান্সারের ভয়াবহতার পেছনে নানা কারণ উল্লেখ করেছেন সাময়া। তিনি বলেন, ‘এখানে এটিকে একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে মনে করেন নারীরা। এ নিয়ে মুখ খুলতে চান না তারা। এমনকি অনেকে পরিবার থেকে বিষয়টি গোপন রাখেন। এক্ষেত্রে ধর্মীয় গোড়ামিই মুখ্য।’

গেসমি বলেন, ‘স্তন ক্যান্সার নিয়ে কথা বলাকে লজ্জাকর মনে করেন নারীরা। সম্প্রতি এক নারী এ নিয়ে তার বোনের সঙ্গে কথা বলতেও লজ্জা পান। আবার কেমোথেরাপির আগে এক নারী স্কার্ফ পরা শুরু করেন। এতে কখন তার মাথা থেকে চুল উঠে গেছে তা তার স্বামীর পরিবারের কেউ টের পাননি। স্তন ক্যান্সারের লজ্জা থেকে বাঁচতে এক নারীকে মৃত্যুর পথও বেছে নিতে দেখা যায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *