Wednesday , March 28 2018
Home / অন্যান্য / ফেসবুক নিয়ে যা বললেন জাকারবার্গ!

ফেসবুক নিয়ে যা বললেন জাকারবার্গ!

 

ফেসবুক হলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। দূরত্ব যা-ই হোক, মানুষে মানুষে নৈকট্য অটুট রাখাই ছিল ফেসবুকের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। কিন্তু ফেসবুক আর শুধু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নেই, এখন এটি হয়ে গেছে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ফেসবুকে পেজ খুলে ব্যবসার বিষয়টি এখন অনেক প্রসার লাভ করেছে। তা ছাড়া সব প্রতিষ্ঠানই এখন ভোক্তাদের কাছে নিজেদের তুলে ধরার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকে এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সংবাদ প্রচারের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার করে।

ফেসবুকের এই নানা ব্যবহারের কারণ একটাই তা হলো এর সঙ্গে যুক্ত বিশ্বের প্রায় কোটি কোটি মানুষ। অঙ্কের হিসাবে প্রায় ২০০ কোটি। একটি ওয়েবসাইট থেকে যদি এত বিপুল মানুষের সঙ্গে আপনি যোগাযোগের সুযোগ পান, তবে তা গ্রহণ করাই স্বাভাবিক। কিন্তু সুবিধা যেমন প্রচুর আছে, তেমনি ফেসবুক ইদানীংকালে কিছু অসুবিধারও মুখোমুখি হয়েছে। সেগুলো হলো, ভুল সংবাদ ও গুজব প্রচার এবং তা থেকে সৃষ্ট সহিংসতা। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন থেকে শুরু করে ভারতের নানা ঘটনায় এটি স্পষ্ট যে ফেসবুকে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের কারণে মানবগোষ্ঠীর গুরুতর ক্ষতি হতে পারে, মানুষের জীবন পড়তে পারে হুমকির মুখে।

এসব বিষয় নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অনেক সংবাদ ও নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি যে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তাও আলোচিত হয়েছে। নতুন করে এই বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসেছেন খোদ ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। গত মাসেই তিনি বলেন, বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে ফেসবুকে। গত বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় জাকারবার্গ বলেন, ফেসবুকের মূল পাতার অ্যালগরিদম (কম্পিউটারের নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম চালানোর জন্য গাণিতিক ভাষায় লেখা নিয়ম) বদলে যাচ্ছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা সংবাদমাধ্যমের ফিড ও বিজ্ঞাপনের চেয়ে এখন ফেসবুক গুরুত্ব দেবে ব্যবহারকারীর বন্ধু ও স্বজনদের খবরকে। অর্থাৎ এখন থেকে ধীরে ধীরে ব্যবহারকারী তাঁর বন্ধুবলয়ের খবর, মন্তব্য, ভিডিও বেশি দেখবেন। শিগগিরই বিশ্বজুড়ে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এ পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

এ নিয়ে অবশ্য কয়েক মাস ধরেই ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছিলেন জাকারবার্গ। গত সেপ্টেম্বর মাসে লেখা এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার কাজ যে পদ্ধতিতে হয়েছে, তাতে মানুষকে কাছে আনার বদলে বিভক্তি বেড়েছে বেশি। আমি এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী এবং অবস্থার উন্নতি করতে আমি কাজ করব।’ নতুন বছরের শুরুতে সেই প্রতিশ্রুতিই রাখলেন বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগের পদ্ধতি বদলে দেওয়া এই ব্যক্তি।

যা চান জাকারবার্গ-

গুগল যখন গুগল প্লাস চালু করেছিল, তখন ফেসবুককে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রাখতে কর্মীদের ওপর ব্যাপক চাপ দিয়েছিলেন জাকারবার্গ। কয়েক বছর আগে যখন মহাসমারোহে প্রযুক্তিপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছিল স্ন্যাপচ্যাট, তখন ওই কোম্পানিই কিনে নিতে চেয়েছিলেন ফেসবুকের এই কর্তা। কিন্তু এখন নিজের প্রতিষ্ঠানকেই ‘হুমকি’ মনে করছেন মার্ক জাকারবার্গ। তাঁর মতে, কোটি কোটি মানুষের কল্যাণের জন্যই ফেসবুকের ‘ত্রুটি’ সারানো প্রয়োজন এবং ২০১৮ সালজুড়ে সেই কাজটিই করতে চান তিনি।

সংবাদ সংস্থা সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে শেয়ার হওয়া মিথ্যা খবরের বিষয়টি আলোড়ন তুলেছিল। এ ছাড়া ওই সময়ে মার্কিন মুলুকে রুশ প্রোপাগান্ডা, হিলারি ক্লিনটনকে ঘিরে মিথ্যা সংবাদ প্রচার, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফেসবুক ব্যবহার করে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের বিষয়টিও সামনে চলে আসে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে ফেসবুক ব্যবহার করে জাতিগত বিদ্বেষ ও সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অহরহই ঘটছে। এখন এই বিষয়টিই জাকারবার্গ সামনে নিয়ে এসে ফেসবুকের অ্যালগরিদম পরিবর্তন করছেন। এর আগে ফেসবুকের সাবেক কর্মীদেরও আক্ষেপ করতে দেখা গেছে যে কী বানিয়েছেন তাঁরা!

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, এসব ঘটনা আদালতেও নিয়ে গেছে ফেসবুককে। আগামী বুধবার ক্যাপিটল হিলের আদালতে এক শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে মৌলবাদী প্রোপাগান্ডা চালানোর অভিযোগে এই মামলা চলছে। শুধু ফেসবুক নয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় টুইটার ও ইউটিউবও আছে।

সিএনএন বলছে, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মানুষের মধ্যকার ইতিবাচক শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে চাইছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বকে দেখাতে চায় যে মানুষের কল্যাণের জন্য কিছু করতে চেষ্টা করছে তারা।

নতুন বছরের শুরুতেই জাকারবার্গ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ফেসবুক ব্যবহার করে হয়রানি ও ঘৃণার প্রসার রোধ করতে চান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন জাতিরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপও বন্ধ করতে চান। মোদ্দা কথা, ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে যেন ‘ভালো সময়’ কাটাতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি।

সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জাকারবার্গ শুধু ফেসবুকের নয়, সেই সঙ্গে নিজের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করতে চাইছেন। ব্লুমবার্গ বলছে, জাকারবার্গ চাইছেন মানুষ যেন অযথা ফেসবুকে স্ক্রল না করেন। এর পরিবর্তে মানুষে মানুষে অর্থপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। আদতে এটিই ছিল শুরুর সময় ফেসবুকের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু নানা কারণে তা থেকে ধীরে ধীরে সরে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

জাকারবার্গ বলেছেন, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিষ্ঠান স্বল্প সময়ের জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ প্রক্রিয়া চলবে। তিনি বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে ম্যাক্সিমা ও আগস্ট বড় হলে যেন উপলব্ধি করতে পারে যে তাদের বাবা বিশ্বের জন্য ভালো কিছু করেছে। এই বিষয়টি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *