Thursday , February 22 2018
Home / অন্যান্য / জেনে নিন, এলিজাবেথ টেইলরের নিখুঁত রূপের রহস্য!

জেনে নিন, এলিজাবেথ টেইলরের নিখুঁত রূপের রহস্য!

হলিউডের ক্লাসিক্যাল এই নায়িকাকে চেনেন অনেকেই। ২০১১ সালে মৃত্যুবরণ করা এই আইকন তার চোখ ধাঁধানো রূপ এবং অনন্য অভিনয় প্রতিভার বলে স্থান করে নেন অগণিত ভক্তের হৃদয়ে।

লন্ডনে জন্ম নেওয়া এলিজাবেথ টেইলরের ক্যারিয়ারের শুরু হয় ১৯৪০ দশকের দিকে। তরুণ বয়সেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে কিছু সিনেমায় এমন সব চরিত্রে তাকে কাজ করতে হয় যার কারণে অভিনয়ের ওপরে তার বিতৃষ্ণা চলে আসে। ১৯৫০ সালের দিকে তিনি অভিনয় জগতকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন।

তবে ১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি দিকে তিনি নিজের পছন্দের কিছু চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পান। কখনোই অভিনয়ের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি তিনি। তার প্রতিভা ছিল পুরোপুরিই নিজস্ব। চরিত্রের সাথে মিশে গিয়ে অভিনয়ে তা তুলে ধরতেন তিনি।

এলিজাবেথ টেইলরের নিখুঁত রূপের রহস্যঃ

চোখের পাপড়ির সৌন্দর্য- 

তার এই অভিনয়ের প্রতিভা এবং রূপ- দুটোই তাকে বিখ্যাত করে তোলার কাজ করে। অনেকেই বলেন, অন্যদের চাইতে তিনি আলাদা ছিলেন তার অসাধারণ চোখ জোড়ার কারণে। কিন্তু তার চোখ অন্যদের চাইতে আলাদা হবার কারণ ছিল দুর্লভ একটি জেনেটিক মিউটেশন। এর কারণে তার চোখে এক জোড়ার পরিবর্তে দুই জোড়া পাপড়ি ছিল বলে মনে হয়। এতে মনে হয় ঘন পাপড়িতে ঢেকে আছে চোখজোড়া। এটা আসলে একটি জেনেটিক মিউটেশন যার নাম হলো ‘ডাইস্টিকিয়া’। এতে অস্বাভাবিক একটি অবস্থান থেকে চোখের পাপড়ি গজায়।

                                                                                                                মাশকারা ছাড়াই তার চোখের পাপড়ি এমন অস্বাভাবিক সুন্দর।

এই পাপড়ির কারণে তাকে দেখে মনে হত তিনি চোখে মাশকারা দিয়ে আছেন। নয় বছর বয়সে ‘ল্যাসি কাম হোম’ সিনেমায় অভিনয় করার সময় সবাই ভেবেছিলেন তার চোখে মেকআপ করা। সেট থেকে তাকে সরিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে তার মুখ মুছে দেওয়া হয়। এর পর আবিষ্কার করা হয় আসলে মাশকারা ছাড়াই তার চোখের পাপড়ি এমন অস্বাভাবিক সুন্দর।

বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা-

শুধু এই একটি নয়, আপনি শুনলে অবাক হবেন এই অভিনেত্রীর ছিল আরো অনেকগুলো শারীরিক সমস্যা। জন্ম থেকেই স্কোলিওসিসের সমস্যা ছিল তার। ‘ন্যাশনাল ভেলভেট’ সিনেমাটি শুট করার সময়ে এর কারণে তার ঘাড় ভেঙে যায়। এ সময়েই আবার তিনি প্রবল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। পিঠের সমস্যার কারণ একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে যান তিনি। ফলে একটা সময়ে তিনি অ্যালকোহল এবং ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। একটা সময়ে প্রচুর ধূমপান করলেও নিউমোনিয়ার পর তা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি।

কোন কিছু গোপন না করা-

অনেক তারকাই নিজের অসুস্থতা বা আসক্তির ব্যাপারে মুখ খুলতে চান না, বরং সবার থেকে আড়াল করে রাখতে চান এসব ব্যাপার। কিন্তু টেইলর এসব ব্যাপার সবার সামনেই খুলে বলেন এবং ক্লিনিকাল থেরাপি নিতেও পিছ-পা হন না। ১৯৮৪ সালে আসক্তির চিকিৎসা শুরু করেন তিনি এবং বছর চারেক পর রিহ্যাবিলিটেশন শুরু করেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে-

বিভিন্ন অসুস্থতার পাশাপাশি নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়েও তিনি বেশ কঠিন সময় পার করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘এলিজাবেথ টেকস অফ’ নামের একটি বইতে তার অভিজ্ঞতার কথা জানান। এইচআইভি এইডসের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। ১৯৯১ সালে তিনি এলিজাবেথ টেইলর এইডস ফাউণ্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।

সব কাজেই দেরি করে দেখা দেয়া-

২০০০ সালের পর তাকে জনসম্মুখে কমই আসতে দেখা যায়। কনজেসটিভ হার্ট ফেইলিওরের কারণে ২০১১ সালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। যার জীবন ছিল এতটাই বর্ণীল, মৃত্যুর পরেও তিনি কিছুটা চমক রেখে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তার ব্যাপারে একটি দুর্নাম ছিল, তিনি কখনোই সময়ানুবর্তী ছিলেন না, সব কাজেই দেরি করে দেখা দিতেন তিনি। মৃত্যুর আগে তিনি এই একই ধারা বজায় রাখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। আর তাই নিজের অন্ত্যস্টিক্রিয়াও শুরু হয় ১৫ মিনিট দেরি করে, অর্থাৎ নিজের ফিউনারেলেও দেরি করে এসেছিলেন এলিজাবেথ টেইলর।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *